আন্তর্জাতিক

জার্মানি বলছে, কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে

দক্ষিণ চট্টলা ডেস্ক:  মাসব্যাপী লকডাউনের সুফল পাওয়া গেছে। ১২ এপ্রিল থেকে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এবং এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সুতরাং বলাই যায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এমন দাবি করছেন জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্পান।

জার্মান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ দেশে সংক্রমণ হার কমে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ভাইরাসটি অন্যজনের শরীরে ছড়ানোর হারও কমে এসেছে ১-এর নিচে।

কভিড-১৯ এ জার্মানিতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৮ জন। এ সংখ্যা ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সের চেয়ে অনেক কম।

অবশ্য জার্মানিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণহানি এখনো থেমে নেই। এদেশে আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাটিও কম নয়। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৩৪ হাজার‌।

লকডাউন খুবই সফল হয়েছে এমনটাই দাবি করছেন জার্মান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে লকডাউন জার্মানির সব এলাকায় একইভাবে আরোপ করা হয়নি। বাভারিয়া এবং সারল্যান্ডে সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার।

গত বুধবার চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরকেল লকডাউন বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল করার ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ছোটখাট দোকানপাট আগামী সপ্তাহেই খুলে দেয়া হতে পারে। আর স্কুল খুলবে মে মাসের শুরুর দিকে। সামনে পরীক্ষা এ কারণেই দ্রুত স্কুল খুলে দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবে না কর্তৃপক্ষ। অনেক প্রদেশেই বাইরে বেরোলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্রীড়া ও অবকাশ কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জার্মানির কৌশল বিশ্বব্যাপীই প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে এদেশে করোনা পরীক্ষার ল্যাবের যে জাল তৈরি করা হয়েছে তাতে আক্রান্ত কেউ হিসাবের বাইরে থাকার উপায় নেই। এপ্রিলের শুরুর দিকেই জার্মানি দৈনিক এক লাখের বেশি পরীক্ষা করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য কোনো সদস্য দেশের এতো পরীক্ষার সক্ষমতা নেই।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগস্টের মধ্যে জার্মান কোম্পানিগুলো স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সপ্তাহে ৫ কোটি করে মাস্ক তৈরির সক্ষমতা অর্জন করবে।

এখানে মন্তব্য করুন