জাতীয়জেলা উপজেলা

মালঞ্চের ৪০ বছর পূর্তি উৎসবে -সরকারের সচিব জামাল উদ্দিন : মালঞ্চ পটিয়ার তরুণ সমাজকে সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার প্রেরণা যোগাচ্ছে

আবদুল হাকিম রানা : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সৃজনশীল সাহিত্য গোষ্ঠী মালঞ্চের আজ থেকে ৪০ বছল পূর্বে যে শুদ্ধি যে চর্চার কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল সেটি শুধু লেখক ও সাহিত্যিক সৃষ্টি করেনি, আদর্শ মানুষ তৈরির ক্ষেত্রে প্রেরণা যুগিয়েছে। আজ দেশের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়েও মালঞ্চের বন্ধুরা নিজ গুণে অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। তাদের পথ চলা এখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। তিনি পরিপূর্ণ বটবৃক্ষে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। তাই এ সংগঠনের মাধ্যমে আগামী দিনের দেশ প্রেমিক নাগরিক তৈরি করার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মাদকের করাল গ্রাসে যেখানে যুব সমাজ বিপর্যস্ত সেখানে মালঞ্চের মত সৃজনশীল সংগঠনগুলোর সাহিত্য চর্চা তাদেরকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

তিনি গত বুধবার দুপুরে পটিয়া পৌর সদরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সৃজনশীল সাহিত্য গোষ্ঠী মালঞ্চের ৪০ তম বর্ষ পূতি উৎসবে প্রধান অতিথির আলোচনায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

মালঞ্চের সভাপতি অজিত কুমার মিত্রের সভাপতিত্বে ও সাধার সম্পাদক ছড়াকার শিবুকান্তি দাশের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উদ্বোধক ছিলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবুল হক, ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দের প্রবক্তা মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ও বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ, দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার স্বপন কুমার মলিøক, দৈনিক পূর্বকোণের মফস্বল সম্পাদক ইসমাইল পারভেজ ফারুকী।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামাল উদ্দিন আরো বলেন, পটিয়ার যে গৌরবটা রয়েছে সেটিকে যদি সমুজ্জ্বল করতে হয় তাহলে চর্চার দরকার। তরুন প্রজন্ম সত্যিকার অর্থে আলোর পথে ধাবিত হোক। চর্চায় বিকশিত হয় মানুষ। তাই চর্চা করতে হবে। সুকুমার চর্চায় মানুষের মনকে বড় করে। কুপমন্ডুকতা মানুষকে ধ্বংস করে। মালঞ্চের কোন সদস্য বিপদগামী নয়। বিপদগামী হবেও না। তারা সবাই দিকপাল হয়েছে। এসময় মালঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্মৃতি রোমান্থন করে তিনি বলেন, আমরা ক’জন সুজন স্বজন পটিয়ার ডাকবাংলো চত্বরে কৃঞ্চচূড়ার ছায়ায় বসেছিলাম। পরে প্রেস ক্লাব অফিসে প্রথম সভার আয়োজন করলাম। সেখানে অনেকেই ছিলেন। আজ যাদের কথা মনে পরে কিন্তু তারা হারিয়ে গেছেন। প্রয়াত রাজ বিহারী চৌধুরী, সেলিম রাহী আজকে তাদের উপস্থিতি থাকলে ভালো হতো। এভাবে কেটে গেলো মাঞ্চের ৪০ টি বছর। এখান থেকে সৃষ্ঠি হয়েছে বহু লেখক, সাহিত্যিক, ছড়াকার, সাংবাদিক ও পাঠক। এ ধারাবিহকতা ধওে রাখতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় উদ্বোধক একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ড. মাহবুবুল হক বলেছেন, মালঞ্চ গড়ে উঠার মধ্য দিয়ে প্রতিকূল পরিবেশে মানুষকে জীবনের গল্প শুনিয়েছে। মহৎ জীবন গড়ে তুলার প্রেরনা যুগিয়েছে। প্রনোধনা যুগিয়েছে। উদ্বুদ্ধ করেছে এবং মানুষ জীবনবোধে মানুষের জন্য কাজ করেছে।
মালঞ্চ প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হয় বইমেলা, গুণীজন সম্মাননা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ, প্রীতি ম্যাচ সহ নানা আনন্দ আয়োজন।

প্রথম পর্বে সকাল ৯ টায় সূচনা করেন, পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ। বিকাল ৩টায় দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধন করেন একুশে পদক প্রাপ্ত ব্যাক্তিত্ব শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন আহমেদ। ইতিহাস ভিত্তিক সংকলন ‘মালঞ্চ’র মোড়ক উম্মোচন করেন অতিথিরা। মালঞ্চ গুনীজন সম্মাননা পেয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দের প্রবক্তা মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ও বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ। মালঞ্চ সংগঠকদের মধ্যে সম্মাননা পেয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. দিলীপ ভট্টচার্য্য, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল আলীম ও লেখক গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা মৃনাল কান্তি বড়ুয়া, পুঁথি গবেষক ইছহাক চৌধুরী, বাসদ নেতা সম ইউনুছ, অধ্যÿ আবু তৈয়ব, মুহাম্মদ ছৈয়দ চেয়ারম্যান, সেলিম উদ্দিন, এডভোকেট খুরশীদ আলম, অধ্যাপক ভগীরত দাশ, ডা: পিন্টু কুমার দে, রশীদ এনাম, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, সোহেল পারভেজ সুমন, আবদুর রহমান রুবেল, পলাশ রক্ষিত, রুদ্র সাজিদুল প্রমুখ।

জানা যায়, সৃজনশীল সাহিত্য গোষ্ঠী মালঞ্চ ১৯৭৮ সালে পটিয়া ডাক বাংলোর চত্বরে কয়েকজন কবি সাহিত্যিক মিলে এই সংগঠনের যাত্রা শুর করেন। হাটি হাটি পা পা করে এটি এখন ৪০ বছওে পদার্পণ করায় গতকাল এ প্রাঞ্জল আয়োজন সকলকে মুগ্ধ করে।

এখানে মন্তব্য করুন